সাহরী খাওয়ার ফজিলত :

‘সেহরি’ আরবি শব্দটি সাহ্রুন মূল ধাতু থেকে নির্গত। সাহ্রুন-এর বাংলা অর্থ রাত্রি জাগরণ করা। বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সমাজে সেহরি শব্দটি একটি ধর্মীয় পরিভাষা হিসেবে বহল প্রচলিত। শাব্দিক দিক দিয়ে রাত্রিকালীন খাবারকে সেহরি বলা হয়। আর ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় রোজাদার ব্যক্তি রোজা রাখার উদ্দেশ্যে রাতের শেষভাগে সুবহে সাদিকের আগে যে খাবার গ্রহণ করে, তাকে সেহরি বলা হয়। সেহরিতে খাবারের তালিকায় যা-ই থাকুক না কেন, সেহরি অত্যন্ত বরকতময় একটি খাবার। তা ছাড়া রোজাদারের জন্য সেহরি খাওয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। বিশেষ করে রোজাদার রোজা রাখার উদ্দেশ্যে রাতের শেষাংশে ঘুম থেকে জেগে খাবার গ্রহণ করা আল্লাহর বিধান পালনে বিশেষ তৎপরতা এবং আল্লাহর বিধানের সামনে নিজের আরাম-আয়েশকে কোরবানি করার শামিল। এ কারণেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রোজাদারকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাই পেটে ক্ষুধা থাকুক বা না থাকুক, সেহরি বর্জন করা মোটেও উচিত নয়। খাওয়ার চাহিদা একেবারেই যদি না থাকে, তা হলেও ঘুম থেকে উঠে সামান্য হলেও কিছু খেয়ে নেওয়া উচিত। এর দ্বারা একদিকে রাসূলের সুন্নাতের ওপর আমল হবে এবং সেহরির বরকতও হাসিল হবে। সেহরির ফজিলত ও বরকত সম্পর্কে রাসূলে কারিম (সা.) থেকে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নিচে আলোচ্য বিষয়ে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো :


হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : তোমরা সেহরি খাও। কারণ, সেহরির মধ্যে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ আল-বুখারী : ১৯২৩, সহিহ মুসলিম : ১০৯৫, ইবনে মাযা : ১৬৯২, তিরমিজি : ৭০৮) হজরত আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো, সেহরি খাওয়া।’ (মুসলিম : ১০৯৬, আবু দাউদ : ২৩৪৩, আস্-সুনানুল কুবরা : ২৪৮৭, মুসনাদে আহমাদ : ১৭৭৬২) অর্থাৎ আহলে কিতাবগণ সেহরি না খেয়ে রোজা পালন করে, অর্থাৎ তারা উপবাস চর্চা করে। তাই রাসূলের উম্মত হিসেবে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আহলে কিতাবদের অনুকরণ বর্জন করে রাসূলের সুন্নত পালন করে সেহরি খেয়ে রোজা রাখা।

বিলম্বে সেহরি খাওয়া সুন্নত : বিলম্ব করে সেহরি খাওয়া সুন্নত। অর্থাৎ রাতের একেবারে শেষভাগে সুবহে সাদিকের আগমুহূর্তে সেহরি খাওয়া সুন্নত। তবে দেরি করার অর্থ এতটা বিলম্ব করা নয়, যে সূর্য উঠে যাওয়ার সন্দেহ হয়। হজরত জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সেহরি খেলাম, অতঃপর নামাজে দাঁড়ালাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, সেহরি খাওয়া ও নামাজে দাঁড়ানোর মধ্যে সময়ের কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি উত্তরে বললেন, পঞ্চাশ আয়াত পাঠ করার মতো সময়ের ব্যবধান ছিল। (সহিহ আল-বোখারি : ১৯২১, সহিহ মুসলিম : ১০৯৭, মুসনাদে আহমাদ : ২১৬১৯, সুনানে দারেমি : ১৭৩৭) অনেকের ধারণা, ফজরের নামাজের আজান পর্যন্ত সেহরি খাওয়া যায়। এ ধারণা একেবারেই ভুল। কারণ, ফজরের আজান দেওয়া হয় সুবহে সাদিকের পরে। আর সেহরির শেষ সময় হলো, সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত। অতএব, আজানের সময় পর্যন্ত সেহরি খেতে থাকলে, অর্থাৎ সুবহে সাদিকের পরে সেহরি খেলে রোজা হবে না।

বিলম্বে সেহরি খাওয়ার সুফল : বিলম্ব করে সেহরি খাওয়াতে রাসূলের সুন্নতের ওপর আমল ছাড়াও একটি বিশেষ লাভ হলো, সুবহে সাদিকের আগ মুহূর্তে সেহরি খাওয়ার পরে অল্প সময়ের ব্যবধানে ফজরের আজান হয়ে যায়। তাই সেহরি শেষে তাড়াতাড়ি ফজরের নামাজ আদায় করে বেশ কিছুটা সময় বিশ্রাম নেওয়ার জন্য পাওয়া যায়। বিশ্রাম শেষে দিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে আত্মনিয়োগ করলে তেমন কোনো অসুবিধা হয় না। বিপরীত দিকে সুবহে সাদিকের অনেক আগে সেহরি খেলে, ফজরের নামাজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা বেশ কষ্টকর। আবার সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে গেলে ঘুম থেকে পুনরায় উঠে নামাজ পড়াটা আরো বেশি কষ্টকর। এ অবস্থাতে ফজরের নামাজ কাজা হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। আমাদের সমাজে অনেককে দেখা যায়, সারা রাত টিভি-সিনেমা দেখে অথবা গল্প-গুজব করে, আড্ডা মেরে সময় পার করে শেষ রাতে সেহরি খেয়ে ঘুমাতে যান। এটা খুবই খারাপ অভ্যাস। আল্লাহর হুকুম পালনের প্রস্তুতি আল্লাহর নাফরমানির মাধ্যমে জঘন্য পাপাচার ছাড়া অন্য কিছু নয়। তা ছাড়া ঘুম থেকে উঠে খাবার গ্রহণের নামই সেহরি এবং সেটাই সুন্নত। তবে কাউকে যদি পেশাগত দায়িত্ব পালনে অথবা কোনো জরুরি কারণে সারা রাত জেগে থাকতে হয়, তার ব্যাপারটা ভিন্ন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী ফরজ আমলগুলো আদায়ের তাওফিক দান করুন!



 সাহরি খাওয়া সুন্নত। সাহরিতে রয়েছে বরকত ও কল্যাণ। ইয়াহুদি-খ্রিস্টানরাও রোজা পালন করত কিন্তু তারা ভোররাতে সাহরি গ্রহণ করত না। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভোররাতে সাহরি খাওয়ার বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। যে কারণে সাহরি খাওয়া উম্মাহর জন্য সুন্নাত। সাহরি খাওয়ার ফজিলত ও গুরুত্ব হলো-

>> সাহরি পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয় বরং ন্যূনতম এক ঢোক পানি পান করলেও সাহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-  تسحروا فإن في السحور بركة  অর্থাৎ ‘তোমরা সাহরি খাও। কেননা, সাহরিতে বরকত রয়েছে। (মুসলিম)


>> অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সাহরি খাওয়া বরকতময় কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সাহরি কর। কারণ যারা সাহরি খায় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমদ, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, ইবনে হিব্বান)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাহরি খাওয়ার ফলে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত, বরকত ও কল্যাণ লাভে বিশ্বনবির সুন্নাত পালনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সাহরি খাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।





ইতিকাফের সর্বনিম্ন সময়কাল

 ইতিকাফের সর্বনিম্ন সময় কতটুকু? আমি কি অল্প কিছু সময়ের জন্য ইতিকাফ করতে পারি? নাকি একসাথে কয়েকদিনের জন্য ইতিকাফ করতে হবে?


আলহামদু লিল্লাহ,

ইতিকাফের সর্বনিম্ন সময়ের ব্যাপারে আলেমগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ আলেমের মতে ইতিকাফের সর্বনিম্ন সময় এক মুহূর্তের জন্যও হতে পারে। এটি ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আহমাদের মাযহাব। দেখুন: আদ্‌দুরুল মুখতার (১/৪৪৫), আলমাজমু (৬/৪৮৯), আলইনস্বাফ (৭/৫৬৬)।

ইমাম নববী আল মাজমূ (৬/৫১৪) গ্রন্থে বলেছেন:

আর ইতিকাফের সর্বনিম্ন সময় সম্পর্কে অধিকাংশ আল দৃঢ়তার সাথে যে মত ব্যক্ত করেছেন সেটাই সঠিক মত। তা হচ্ছে- ইতিকাফের জন্য মসজিদে অবস্থান করা শর্ত সেটা বেশি সময়ের জন্য হতে পারে, কম সময়ের জন্যেও হতে পারে। এমনকি সামান্য সময় বা এক মুহূর্তের জন্য হতে পারে। সমাপ্ত ও সংক্ষেপিত।

এ মতের পক্ষে তাঁরা কয়েকটি দলীল পেশ করেছেন :

১. ইতিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- অবস্থান করা। এটি দীর্ঘ সময়ের জন্যেও হতে পারে, অল্প সময়ের জন্যেও হতে পারে। শরিয়তের এমন কোন দলীল পাওয়া যায় না যা নির্দিষ্ট কোন সময়সীমার মধ্যে ইতিকাফকে সীমাবদ্ধ করে দিবে।

ইবনে হাযম বলেছেন:

আরব ভাষায় ইতিকাফ শব্দের অর্থ-অবস্থান করা। তাই আল্লাহর মসজিদে তাঁর নৈকট্য লাভের আশায় যে কোন অবস্থানই হল ইতিকাফ। সেটা কম সময়ের জন্যে হোক অথবা বেশি সময়ের জন্যে হোক যেহেতু কুরআন ও সুন্নাহ নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা বা সময় নির্ধারণ করেনি  সমাপ্ত। [আল-মুহাল্লা (৫/১৭৯)]

২. ইবনে আবু শাইবাহ ইয়ালা ইবনে উমাইয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: আমি মসজিদে অল্প কিছু সময় অবস্থান করলেও সেটা আমি ইতিকাফের নিয়্যতে অবস্থান করি। ইবনে হাযম ‘আল-মুহাল্লা’ গ্রন্থে (৫/১৭৯) এই রেওয়ায়েত দিয়ে দলীল পেশ করেছেন এবং হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে  তা উদ্ধৃত করেছেন; কিন্তু কোন মন্তব্য করেননি। রেওয়ায়েতটিতে الساعة (ঘন্টা) দ্বারা বর্তমান পরিভাষায় যা বুঝি ৬০ মিনিট সেটা উদ্দেশ্য নয়। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে- কিছু সময়।

কিছু কিছু আলেমের মতে ইতিকাফের সর্বনিম্ন সময় একদিন। ইমাম আবু হানিফা থেকে ও মালেকি মাযহাবের কোন কোন আলেম থেকে এ ধরনের একটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

শাইখ ইবনে বায ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ গ্রন্থে (১৫/৪৪১) বলেছেন: ইতিকাফ হল আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করা, সময় কম হোক অথবা বেশি হোক। কারণ আমার জানা মতে এমন কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না যা একদিন, দুইদিন বা এর চেয়ে বেশী দিনের জন্য ইতিকাফ করাকে নির্দিষ্ট করবে। ইতিকাফ শরিয়তসম্মত ইবাদত। তবে কেউ যদি মান্নত করে তখন মান্নতের কারণে তার উপর ইতিকাফ করা ওয়াজিব হয়ে যাবে। ইতিকাফের বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার যাকাত দিতে হবে কি ?

প্রশ্ন : 
আসসালামু আলাইকুম। আমি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি। প্রবিডিয়েন্ট ফান্ড এ আমার ৪ হাজার টাকা কেটে রাখে প্রতি মাসে। বছরে ৪৮,০০০ টাকা হয়। বর্তমানে ৫ লক্ষ টাকার উপরে আছে। আমার কি যাকাত দিতে হবে?

উত্তর :
ওয়া আলাইকুম আস সালাম। 
 
১) মনে করুন, আপনাকে বাধ্যতামূলক কাটতে হবে ১০০০ টাকা। তাহলে এই একহাজার টাকায় প্রভিডেন্ট  ফান্ডে যে লাভ হবে, তা  সুদ হবে না। তার প্রবৃদ্ধি করে সরকার মোট যা যোগ করবে ভোগ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েজ। এবং হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডে থাকা কালীন  এই সমুদয়  টাকার কোনো যাকাত দিতে হবে না। 

২) এখন আপনি মাসে কাটেন চার হাজার টাকা। তাহলে আপনার বাড়তি যে  ৩০০০ টাকা  জমা রাখছেন, সেটার ক্ষেত্রে যে সরকার যে লাভ দেবে, তার আপনার জন্য সুদ হবে। এবং এই বাড়তি টাকা ভোগ ব্যবহার করা আপনার জন্য হারাম হবে।  এছাড়া ৩০০০ টাকা করে যা জমেছে তার উপর আপনাকে যাকাত দিতে হবে। এবং ৩০০০ টাকা করে জমার কারণে যে সুদ পেয়েছেন, তা গরীব মিসকিনকে বিনা সওয়াবের নিয়তে দিয়ে দিতে হবে। 

এখন ধরুন, আপনার বাধ্যতামূলক কর্তন হিসেবে জমা হয়েছে ১০০,০০০ (এক লক্ষ ) টাকা। তাহলে এই এক লক্ষ টাকার কোনো যাকাত দিতে হবেনা এবং এর উপরে যে লভ্যাংশ পেয়েছেন, তাও আপনার জন্য হালাল। 

আর বাকী টাকার উপরে আপনাকে যাকাত দিতে হবে। যেমন ধরেন, ৩০০০ টাকা করে জমানোর ফলে আপনার জমেছে ৩,৫০,০০০ (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ) টাকা। এই টাকার উপর আপনাকে যাকাত দিতে হবে। 

বাকী, ৩০,০০০/ (ত্রিশ হাজার ) টাকার ১০,০০০ টাকা মনে করি  আপনার ঐ আসল একলক্ষ টাকার উপর লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে।  বাকী, যে ২০,০০০ টাকা, মনে করি এটা আপনার ঐ ৩,৫০,০০০ (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ) টাকার লভ্যাংশ। তাহলে, এটা আপনার জন্য হারাম। 

এখন আপনাকে যা করতে হবে, 

১) ৩,৫০,০০০ (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ) টাকার যাকাত আদায় করবেন। 

২) আপনার নিজের কাছ থেকে আরো ২০,০০০ টাকা গরীব দু:খিকে বিনা সওয়াবের নিয়তে দান করে দেবেন। তাহলে ফান্ডের ২০,০০০ টাকা আপনার নিজের হয়ে গেল। 

৩) এরপর থেকে শুধুমাত্র যে বাধ্যতামূলক টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডে কাটতে হয়, শুধুমাত্র ততটুকুই কাটাবেন। তাতে যে লভ্যাংশ দেওয়া হয়, তা সুদ হবেনা, এবং তা নিসাব পরিমাণ হলে তার যাকাতও দিতে হবেনা। শুধুমাত্র, যখন টাকা হাতে পাবেন, তখন ঐ বৎসর থেকে লভ্যাংশ সহ পুরো টাকার উপর যাকাত দিতে হবে।  
কিন্তু বাধ্যতামূলক এর চেয়ে  বাড়তি কাটলে, সেই বাড়তি টাকার  লভ্যাংশ সুদ হবে, এবং বাড়তি টাকা নিসাব পরিমাণ হলে তার যাকাতও দিতে হবে। 

=======================

প্রভিডেন্ট ফান্ডের যাকাতের নীতিমালা:  

 (০১)

★প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে চাকরিজীবীর বেতনের যে অংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে কেটে রাখা হয় তার উপর সুদের নামে অতিরিক্ত যা দেওয়া হয় তা চাকরিজীবীর জন্য গ্রহণ করা জায়েয আছে। এটাকে সুদ বলা হলেও শরীয়তের দৃষ্টিতে তা সুদ নয়।
,
আর প্রভিডেন্ট ফান্ডে বাধ্যতামূলক অংশের অতিরিক্ত আরো টাকা নিজ থেকে কাটানো জায়েয নেই। কেউ কাটালে এ টাকার উপর যা অতিরিক্ত দেওয়া হবে তা নাজায়েয ও সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
,
তবে কেহ যদি বাধ্যতামূলক অংশের অতিরিক্ত টাকা জমা করে,তাহলে তাহা বৈধ হবেনা। এটির কারণে সুদি চুক্তির গুনাহ হবে। 

এখন সম্ভব হলে কর্তব্য হবে, বাধ্যতামূলকের অতিরিক্ত যা জমা করেছে, তার সুদসহ উঠিয়ে ফেলা এবং এই সুদ সওয়াবের নিয়ত ব্যতীত গরীব-মিসকীনকে সদকা করে দেওয়া। আর এখন উঠানো সম্ভব না হলে চাকরি শেষে যখন সব টাকা উঠাবেন তখন হলেও ঐচ্ছিক জমাকৃত অংশের সুদ সদকা করে দিতে হবে। আর নিজ বেতনের জমাকৃত অংশ আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।
,
প্রকাশ থাকে যে, বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডের মূল ও অতিরিক্ত হস্তগত হওয়ার আগ পর্যন্ত তা যাকাতযোগ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই তা হস্তগত হওয়ার পর বিগত বছরের যাকাত দিতে হবে না।
আর আপনি স্বেচ্ছায় যে এক লক্ষ টাকা জমা করেছিলেন এ টাকার যাকাত জমার বছর থেকেই দিতে হবে। এ টাকার অতিরিক্তটা যাকাতযোগ্য নয়; বরং তা পুরোটাই সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকাযোগ্য।

(মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস ২৫১১; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ১/৪৬৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; ইমদাদুল আহকাম ৩/৪৮০; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৩/২৫৮)

★প্রভিডেন্ট ফান্ডে যদি সরকারীভাবে বেতন থেকে কেটে রেখে দেয়া হয়, তা উঠিয়ে ফেলার কোন সুযোগ যদি সরকারী কর্মচারীর না থাকে, তাহলে উক্ত ফান্ডের জমা কৃত টাকার উপর যাকাত আসবে না। যেহেতু উক্ত টাকার মালিকই এখনো পর্যন্ত উক্ত চাকরিজীবি হচ্ছে না।
পক্ষান্তরে যদি স্বেচ্ছায় প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমা রাখে। অর্থাৎ ইচ্ছে করলেই উক্ত চাকরিজীবি জমাকৃত টাকা উঠিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়, তাহলে উক্ত টাকার উপর যাকাত আসবে। নতুবা আসবে না।

★প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমাকৃত টাকা খরচ করার ব্যাপারে মালিকের স্বাধীনতা থাকলে অর্থাৎ যেকোন সময়ে উঠানো সম্ভব হলে যাকাত দিতে হবে। আর স্বাধীনতা না থাকলে যখন পাবে তখন সব টাকার যাকাত দিতে হবে। কারণ যাকাত বের করার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে- সম্পদের উপর মালিকের স্বাধীনতা থাকা।
ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩৯৫ পৃঃ।

(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)
------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ



ইসলামে মহিলাদের সাক্ষ্য

 প্রশ্ন-বিস্তারিত: দুই মহিলার সাক্ষ্য দ্বারা কিসাস সংগঠন হবে কি??

উত্তর : আসলে এ ব্যাপারে মতবিরোধ রয়েছে। সাধারণত নারীগণ আবেগপ্রবণ, এবং যে কোনো বিষয় দ্বারা খুব সহজেই প্রভাবিত হতে পারেন, তাদেরকে কেউ প্রভাবিত করে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াতে পারেন, পুরুষগণ যতটুকু ঋজু স্বভাবের হন, মেয়েরা তা হননা, এজন্যই নারীদের সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে এবং তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে কিছু শর্ত রয়েছে। আর যারা গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে মত পোষণ করেন, তাদের যুুক্তি হলো, হযরত আয়েশার একক সাক্ষ্য (হাদীস) গ্রহণ যোগ্য । তার থেকে প্রায় ২২২০ টি হাদীস গ্রহণ করা হয়েছে, যা শরীয়তের নিয়ম কানুন হিসেবে প্রযোজ্য হয়। তাছাড়া, চাদ দেখার ক্ষেত্রেও একজন নারী সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং, যে ঘরে একজন স্বামী স্ত্রী আছে, কোনো দুরর্বৃত্ত সেই ঘরে প্রবেশ করে, স্বামীকে হত্যা করলো, এখন স্ত্রী ছাড়া তো আর কোনো সাক্ষী নেই । সেক্ষেত্রে সেই স্ত্রীর সাক্ষ্য কেন গ্রহণ করা হবেনা ? অথবা, এক বাড়িতে শুধু ননদ আর ভাবি আছে। বাড়িতে কোনো পুরুষ নেই, সবাই কাজে গেছে। ইতোমধ্যে, কোনো ব্যাক্তিকে পিছনের দরজা দিয়ে নিয়ে এসে ননদ জেনা করলো, এবং ভাবি কোনো ভাবে তা দেখে ফেলল, অথবা, কোনো পুরুষ ধর্ষণ করলো, সেখানে একজন মহিলা ছাড়া আর কোনো সাক্ষী নেই, এসব ক্ষেত্রে একজন মহিলার সাক্ষ্য কেন গ্রহণ করা হবেনা ? তবে, শরীয়তের দৃষ্টিতে একজন কাজী নিজে তদন্ত করে এবং সব কিছু জেনে বুঝে বিচারের ফায়সাল দিতে পারেন। যেমন: হযরত উমর রা: জেনার এক বিচারে চারজন সাক্ষী থাকার পরেও সে ব্যাক্তিকে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন। কারণ, যে মহিলার সাথে জেনার অপবাদ দেওয়া হয়েছিল, সেই মহিলা, এবং ঐ ব্যাক্তির নিজের স্ত্রী প্রায় একই রকম দেখতে । তাই হযরত উমর ঐ ব্যাক্তিকে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন। সুতরাং, বলা যায়, বিভিন্ন মামলা এবং তার অবস্থার প্রেক্ষিতে বিচারকের নিজস্ব কিছু ক্ষমতা থাকা উচিত, যাতে পরিস্থিতি সাপেক্ষে সঠিক ফায়সালা তিনি দিতে পারেন। ওয়াল্লাহু আ’লাম।

-----------------------------------------------


একজন পুরুষের সাক্ষীর বিকল্পে দুজন নারীর সাক্ষ্য কেন বলল ইসলাম ? নারীদের কি জ্ঞান পুরুষের অর্ধেক ?

প্রশ্নঃ একজন পুরুষের সাক্ষীর বিকল্পে দুজন নারীর সাক্ষ্য কেন বলল ইসলাম ? নারীদের কি জ্ঞান পুরুষের অর্ধেক ?

লিখেছেনঃ এম ডি আলী

উত্তরঃ বাহ্যিক দৃষ্টিতে সাক্ষীদানের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের যে বৈষম্য দেখা যায় তা বিন্দুমাত্রও লিঙ্গ বৈষম্যের কারনে নয় । বরং সেটা ইসলামের বিবেচনায় সমাজ নারী ও পুরুষের প্রকৃতি ও ভূমিকার পার্থক্যের জন্য । তাই আসুন প্রথমে উক্ত আয়াতটি সম্পূর্ণ জেনে নেইঃ

* সুরা বাকারা ২:২৮২ = হে ইমানদারগণ যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য তোমরা একে অপরের সাথে লেনদেন করো তাহলে তা লিখে রাখো । অতপর তোমাদের নিজেদের মধ্যের দুজন পুরুষকে সাক্ষী বানাও । তখন যদি দুজন পুরুষের আয়োজন না করা যায় তাহলে একজন পুরুষ ও যাদের সাক্ষীর ব্যাপারে তোমরা আস্থাশীল এমন দুজন নারী বেছে নেও যে একজন ভুল করলে অন্যজন স্মরণ করিয়ে দিতে পারে ।

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে ফি যিলাযিল কুরানের খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪০১ এ বলা হয়েছেঃ বিশেষ কোন পরিস্থিতিতে দুইজন পুরুষ সাক্ষী পাওয়া দুর্লভও হতে পারে এই ক্ষেত্রে ইসলামের আইন কাজটি আরও সহজ করার জন্য নারীদেরকেও সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তলব করে । ইসলামের আইন পুরুষদের তলব করে শুদু এই জন্য যে একটি সুস্থ স্বাভাবিক মুসলিম সমাজে পুরুষরাই সাধারনত সামাজিক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে থাকে ।

তাফসীরে ফি যিলাযিল কুরানের খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪০২ এ বলা হয়েছেঃ অবশ্য দুই জন পুরুষ পাওয়া না গেলে একজন পুরুষ এবং দুইজন নারীর সাক্ষী দিতে হবে । এখানে একটি প্রশ্ন আসে যে, দুইজন কেন নারী সাক্ষ্য দিবে ? এর কারন হলঃ একজন ভুলে গেলে অন্যজন যাতে স্মরণ করিয়ে দেয় । ভুলে যাওয়ার একাধিক কারন থাকতে পারে। চুক্তির বিষয় নারীর জ্ঞান কম থাকাও একটি কারন বটে, অভিজ্ঞতা কম থাকার কারনে চুক্তির সব বিষয় সম্পর্কে তার জানা নাও থাকতে পারে এটা স্বাভাবিক একটি ব্যাপার । তাই প্রয়োজনের সময় নিরভুল সাক্ষ্য দেয়ার জন্য যতটা পরিষ্কার বুঝ দরকার একজন নারীর তা নাও থাকতে পারে । এই ক্ষেত্রে একে ওপরকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সকল বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে । আরেকটি কথা হল নারীরা নমনীয় স্বভাবের হয় আবার বেশি আবেগ প্রবন হয় অনেক সময় আর চুক্তি বিষয় গুলা একটু শক্ত মানুষ হয়েই করতে হয় তাই একজন নারীর যেন ধোঁকার স্বীকার না হয় তাই তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে আরেকজন নারীর দরকার । এটা একটা সেফটির মতন অনেকটা ।

এই বিষয় হাফেজ মুনির উদ্দিন আহমেদ এর "সাক্ষীর কাঠগড়ায় নারী" বইটি পড়তে পারেন । 

খেয়াল করুন আয়াতটি ব্যবসা টাকা পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত । এসব ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তির আদেশ দেয়া হয়েছে এবং সেখানে দুজন সাক্ষীর কথা বলা হয়েছে আর সে দুজনই পুরুষ হতে হবে কিন্তু যদি আস্থাভাজন দুজন পুরুষের মানুষের ব্যাবস্থা না করা যায় কেবল তখন অন্ততঃ একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা থাকতে হবে ।আর্থিক লেনদেন বিষয় যেখানে নারীরা বিজনেস সম্পর্কে অথবা যে নারীরা আর্থিক সংক্রান্ত লেনদেন বুঝে কম তাদের ক্ষেত্রে একজন পুরুষের সাক্ষীর বিকল্প হিসেবে দুইজন নারীর সাক্ষীকে রাখা হয়েছে ।

এখন প্রশ্ন আসতে পারেঃ যদি একজন নারী দক্ষ হয় অথবা পুরুষ আর্থিক সংক্রান্ত লেনদেন কম বুঝে সে ক্ষেত্রে কি সমাধান ? এর উত্তর সহজ । তাহলে উক্ত পুরুষ নারীর থেকে পরামর্শ নিতে পারবে কোন সমস্যা হবে না ।

= একজন পুরুষের সাক্ষীর বিকল্প দুজন নারীর সাক্ষ্য সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য না । সাক্ষী প্রদান করার ক্ষেত্রে কুরানের কিছু আয়াত আছে যেখানে নারী এবং পুরুষের পার্থক্য বা তফাৎ করা হয়নি । যেমনঃ

১/ উত্তরাধিকার ওসিয়ত করার ক্ষেত্রে সাক্ষী হিসেবে দুজন ন্যায়পরায়ন ব্যাক্তির কথা বলা হয়েছে । সুরা মায়দা ৫:১০৬= তোমাদের মধ্যে কেউ যখন মৃত্যুর দুয়ারে পৌছায় তখন ওসিয়ত করলে হলে তোমাদের মধ্যে থেকে সাক্ষী রেখো । তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ন ব্যাক্তি অথবা বাইরের ।

২/ তালাকের ক্ষেত্রে দুজন ন্যায়পরায়ন সাক্ষীর কথা বলা হয়েছে । সুরা তালাক ৬৫:২ = সাক্ষীর জন্য তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ন ব্যাক্তিকে নাও ।

৩/ নারীর প্রতি ব্যভিচারের অভিযোগ করা হলে দাবী কারীর পক্ষে চারজন সাক্ষী দাড় করাতে হবে। সুরা নুর ২৪:৪ = যারা চরিত্রবান নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে তারপর তারা চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারবে না (অভিযোগ প্রমানের জন্য) তাহলে তাদেরকে আশিবার বেত্রাঘাত করো এবং আর কখনোই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না । আর এরাই হল ফাসেক ।

৪/ কুরআন পরিষ্কার করে দিয়েছে একজন নারীর সাক্ষী একজন পুরুষের সমান। সুরা নুর ২৪:৬ = যারা তাদের স্ত্রীদের সম্পর্কে অভিযোগ তুলবে অথচ তাদের কাছে তাদের নিজেদের ছাড়া অন্যকোন সাক্ষ্যদাতা নাই তাহলে তাদের একজনের সাক্ষ্যই চারবার আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে বললে গ্রহণ যোগ্য হবে ।

৫/ হযরত আয়েশা (রা) এর একক সাক্ষীই হাদিসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে । হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত ২২২০টি  হাদিস শুধুমাত্র তাঁর একার উপরেই বিশুদ্ধতার প্রমান । তিনি একজন নারী এবং  হাজার হাদিস বর্ণনা করেছেন । একজন নারীর সাক্ষীর যে যোগ্যতা আছে কাজের ক্ষেত্র অনুযায়ী এটাই বিশাল প্রমান হিসেবে বলা যায় ।

৬/ চাঁদ দেখার ব্যাপারে একজন ন্যায়পরায়ন নারীর সাক্ষীই এনাফ । এখানে মজার ব্যাপার আছে খেয়াল করেন । ইসলামের একটি স্তম্ভ রোজার কার্যকারিতার ব্যাপার সমগ্র মুসলিম জনগোষ্ঠী মাত্র একজন নারীর সাক্ষীর উপরেই নির্ভর করতে পারে ।

৭/ আবার কোন কোন ক্ষেত্রে শুদুমাত্র নারীর সাক্ষীই গ্রহণযোগ্য সেখানে পুরুষের কোন ভূমিকা নাই । যেমন কোন নারীর মৃতদেহের গোসল করানোর ক্ষেত্রে সাক্ষী শুদুমাত্র একজন নারীর পক্ষেই হওয়া সম্ভব ।

প্রশ্নঃ একজন নারীর জ্ঞান কি পুরুষের অর্ধেক ?

উত্তরঃ এই বিষয় হাদিস হলঃ

* ihadis.com, সহিহ বুখারি, হাদিস ৩০৪, সহিহ হাদিসঃ আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে মহিলা সমাজ! তোমার সদাক্বাহ করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেনঃ কী কারণে, হে আল্লাহ্‌র রসূল? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমানে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও। বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তারা বললেনঃ আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, হে আল্লাহ্‌র রসূল? তিনি বললেনঃ একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তারা উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়েয অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি।

* ihadis.com, সহিহ বুখারি, হাদিসঃ ২৬৫৮, সহিহ হাদিসঃ আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নারীদের সাক্ষ্য কি পুরুষদের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? উপস্থিতরা বললো, অবশ্যই অর্ধেক। তিনি বলেন, এটা নারীদের জ্ঞানের ক্রটির কারণেই।

উপরের হাদিস গুলো মনোযোগের সাথে পড়লে আমরা যা বুঝতে পারিঃ

১/ নারীরা জাহান্নামে বেশি যাবে কারন তারা মেক্সিমাম অভিশাপ দিয়ে থাকে , স্বামীর কথা অমান্য করে ।

২/ নারীদের বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি আছে ।

৩/ নারীদের এমন ক্ষমতা আছে যে নিজেদের থেকে বেশি দক্ষ একজন মানুষকেও বশ করতে পারে ।

৪/ একজন নারীদের সাক্ষী একজন পুরুষের সাক্ষীর অর্ধেক। হাদিসেই বলা আছে বুদ্ধির ত্রুটির কারনে (সব ক্ষেত্রে নয় বিস্তারিত উপরে লেখা আছে)

৫/ দ্বীনের ত্রুটির জন্য হায়েজ উল্লেখ করেছেন নবী মুহাম্মদ (সা) ।

৬/ নারীরা বেশি জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না এই কথা উপরের হাদিসে কথাও নাই ।

৭/ নারীরা জাহান্নামে যেই কারনে যাবে সেই কারন গুলি যদি নারীদের মধ্যে না থাকে তাহলে নারীরা জাহান্নামে যাবে না ।

৮/ আর নারীদের হায়েজ দ্বীনের ত্রুটি বলা হয়েছে এর মানে এই না যে নারীরা আল্লাহ্‌র কাছে প্রিয় হতে পারবে না ।

৯/ সুরা ফাতির ৩৫:২৮ = বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে । - এখানে নারী যদি আল্লাহ্‌কে বেশি ভয় করে তাহলে নারী একজন পুরুষ থেকে আল্লাহর বেশি প্রিয় হতে পারবে যা একজন কম জ্ঞানী পুরুষ হতে পারবে না ।

১০/ একজন নারী যদি কঠোর পরিশ্রম করে জ্ঞান অর্জন করে , অভিশাপ না দেয় , স্বামীর ভাল কথা মান্য করে, ইসলাম মেনে চলে তাহলে আল্লাহ্‌ যদি তাকে মাফ করে তাহলে এই নারীরা জান্নাতে যাবে কোন সন্দেহ নাই ।

১১/ উপরের হাদিসে কথায় আছে "নারীরা জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না" ???

১২/ সেসব নারীদের জ্ঞানে ত্রুটি আছে তারা সেটি ঠিক করতে পারবে না এটা হাদিসের কথায় আছে ???


------------------------------

(সংগৃহীত ডকুমেন্ট :  ) 

শারিয়ায় নারী-সাক্ষী

সাক্ষ্য কি ? সাক্ষ্য হল, কোন লোক কোন অপরাধ ঘটতে দেখল এবং আদালতে বিচারকের সামনে সেটা বয়ান করল। বাঘা অপরাধীও ওটাকেই সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। কেন জানেন ? কারণ হল − অপরাধীর বিরুদ্ধে চাক্ষুষ সাক্ষী সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্র। সেজন্যই অপরাধীরা সাক্ষীকে খুন পর্যন্ত করে ফেলে। শুধুমাত্র সাক্ষীর জোরেই অপরাধীর শাস্তি হয়, সাক্ষীর অভাবে সত্যিকারের অপরাধীও ছাড়া পেয়ে যায়। এ-ছাড়াও আছে বিশ্বাসের সাক্ষ্য − “লা ইলাহা ইলালাহু মুহম্মদুর রসুলুলাহ − আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আলাহ একমাত্র মাবুদ আর মুহম্মদ তাঁর রসুল।” এ-সাক্ষ্য ছাড়া মুসলমানই হওয়া যায় না। বিদায় হজ্বে তাঁর শেষ ভাষণে নবীজীও সবার কাছ থেকে সাক্ষ্য নিয়েছিলেন − “আমি কি আলার বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি ?” লক্ষ লক্ষ হাত আকাশে উঠে ঘোষণা করেছিল − “নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই, ইয়া রসুলুলাহ। ” নবীজী বলেছিলেন − “সাক্ষী থাক, আমিও সাক্ষী থাকলাম।” সে-জন্যই খোদ কোরাণও বলেছে সাক্ষ্য গোপন না করতে − বাকারা ২৮৩, মায়েদা ১০৬, ইমরান ১৬১, ইত্যাদি।

এই হলো ইসলামে সাক্ষ্যের মর্যাদা, এই হলো আদালতে সাক্ষ্যের উপকারিতা। এতে নারী-পুরুষ কোনই ভেদ নেই। একটা প্লেটে যদি কোন মানুষের চোখ রাখা হয় তবে কেউ বলতে পারবে না ওটা পুরুষের চোখ না নারীর। গাছের আম পুকুরের মাছ আকাশের তারা পুরুষ যেমন দেখে নারীও হুবহু ঠিক তেমনি দেখে। ডাকাতি বা খুন চোখের সামনে হলে পুরুষ যা দেখে নারীও তাই দেখে। তাই সাক্ষ্যের ব্যাপারে নারী-পুরুষের কোনই ভেদাভেদ থাকার কথা নয়। এবারে চলুন দেখি শারিয়া-আইন পুরুষ ও নারীর সাক্ষ্যের মধ্যে কোনো তফাৎ করে কি না।

হুদুদ মামলায় নারী-সাক্ষ্য চলবে না চারজন মুসলমান পুরুষ সাক্ষীর প্রয়োজন এ-আইন আছে হানাফি আইন ১৭৬ ও ৩৫৩ পৃঃ, শাফি’ই আইন পৃঃ ৬৩৮,Law #o.24.9, মওলানা মুহিউদ্দিনের বাংলা কোরাণ পৃঃ ২৩৯ ও ৯২৮,ক্রিমিনাল ল’ ইন ইসলাম অ্যাণ্ড দ্য মুসলিম ওয়ার্ল্ড পৃঃ ২৫১, পেনাল ল’ অফ ইসলাম পৃঃ ৪৪, ৪৫ ইত্যাদিতে। কারণ হিসেবে বলা আছে, “বোধশক্তির দুর্বলতা, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা ও পরিস্থিতিকে আয়ত্তে রাখিবার ক্ষমতার অভাবের জন্যই নারীদের সাক্ষ্য প্রম হইতেই গ্রহণযোগ্য নহে” (দ্য পেনাল ল’ অব্ ইসলাম ৪৪ ও ৪৫ পৃষ্ঠা)।

কিন্তু ওগুলো বাহানা ছাড়া আর কিছুই নয়। দেশে দেশে এমন কোন কাজ নেই যা নারীরা পুরুষের মতোই করছেন না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা পুরুষের চেয়ে ভাল করছেন। এর সাথে এ-আইনও আছে − “হুদুদ মামলায় নারী বিচারক হতে পারবে না” (বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন ২য় খণ্ড পৃঃ ২১৭, ধারা ৫৫৪)। এ-জন্যই ইরাণে সব নারী-বিচারককে কোর্টের কেরানি বানানো হয়েছে। যিনি জাতির গর্ব হতে পারতেন নোবেল প্রাইজ প্রাপ্ত সেই নারী-বিচারক শিরিণ এবাদী তাঁদের একজন, তিনি পদত্যাগ করেছেন।

মনে করুন কোন মা-বোনের চোখের সামনে খুন বা ডাকাতি হল, সেখানে আর কেউ নেই। শারিয়া-আদালতে মামলা গেল, মা-বোন সাক্ষী দিতে গেলেন। কিন্তু শারিয়ায় তাঁদের চাক্ষুষ সাক্ষ্য নেয়া হবে না। কারণ আইনটা হল − “খুনীর অপরাধ প্রমাণের জন্য কমপক্ষে দুইজন পুরুষ সাক্ষীর প্রয়োজন হইবে” (ধারা ৫৯৩, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২৮৬ বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ), এআইনে ক সমর্থন করার জন্য সুরা বাকারা ২৮২ আর সুরা ত্বালাক আয়াত ২-এর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোরাণ খুলে দেখুন ওখানে খুনের কোন কথাই নেই। বাকারা বলছে ধার-দেনার দলিলে আর ত্বালাকে আছে বৌ-তালাকে দু’জন পুরুষ সাক্ষী রাখতে। শারিয়ায় এক হাদিসের সূত্রে এ-ও বলা আছে, দু’জন পুরুষের চাক্ষুষ সাক্ষ্য না থাকলে “বিচারক খুনীকে কায়েদমুক্ত করিয়া দিবেন” (ঐ পৃষ্ঠা ২৮৭), অথবা, চাক্ষুষ সাক্ষ্য না থাকলে শুধু আলামতের ভিত্তিতে খুনী-ডাকাতের শাস্তি হবে না (“ঐ” ধারা ৬০০-এর বিশেষণ, ২য় খণ্ড পৃঃ ২৯২), অথচ খুনের চাক্ষুষ সাক্ষী পাওয়া কঠিন, পারিপার্শ্বিক আলামতের ভিত্তিতে বহু খুনীর শাস্তি হয়। তাই আমরা বারবার বলছি এই আইনগুলো বদলানো দরকার। আশ্চর্য এই যে, শারিয়া বইতেও বলা হয়েছে আইনগুলো বদলানোর সুযোগ আছে (“ঐ” পৃঃ ২৬৭, ধারা ৫৭৬) কিন্তু বদলানো তো হয়ই নি বরং না বদলিয়েই এই আইন তাঁরা দেশে চালাতে চান। এটা শারিয়াপন্থীদের ১৪০০ বছরের পুরনো কৌশল। মুখে বলা হবে “পরিবর্তনের সুযোগ আছে” কিন্তু সে পরিবর্তন কোনদিনই করা হবে না।

এ-আইন ইসলাম-বিরোধী এটা শারিয়াবিদরাও বোঝেন। তাই আইনটাকে একটু মেরামত করার চেষ্টা হয়েছে যেমন, যেনা প্রমাণের ক্ষেত্রে চারজন ন্যায়পরায়ণ মুসলমান পুরুষ সাক্ষী লাগবে, অথবা প্রতিজন পুরুষের পরিবর্তে দু’জন মুসলিম ন্যায়পরায়ণ মহিলা হলেও চলবে (“ঐ” ৩য় খণ্ডের ৮৮৮ পৃষ্ঠা), অর্থাৎ রোকেয়া হলে বা শামসুনড়বাহার হলে সাতজন মেয়েদের সামনে যদি জ্বেনা হয় তবে অপরাধীরা সবার সামনে অট্টহাসি হাসতে হাসতে পগার পার হয়ে যাবে। আর “ন্যায়পরায়ণ মহিলা” কে, তা নিয়ে উকিলের তর্কবিতর্কের শেষ হবে না।

আমি ইসলামের কথা বলছি। আমি ন্যায়ের ও মানবতার কথা বলছি।

শারিয়ার একটা মারাত্মক আইন হল ধর্ষণের সাক্ষী। এ-আইনে অবৈধ সম্পর্ক এবং ধর্ষণ এ-দু’টোকেই প্রমাণ করতে লাগবে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি অথবা চারজন বয়স্ক পুরুষ মুসলিমের চাক্ষুষ সাক্ষ্য (পাকিস্তানে শারিয়া আইনের ১৯৭৯-এর অর্ডিন্যান্স নম্বর ৭, ১৯৮০ সালের এর অর্ডিন্যান্স নম্বর ২০ দ্বারা সংশোধিত), এই আইন নিয়ে বহু সেমিনার, কন্ফারেন্স, বহু নিবন্ধ হয়েছে, এর পালায় পড়ে পাকিস্তানে হাজারো মা-বোন বহু বছর ধরে জেলখানায় বন্দি আছেন কারণ তাঁরা ধর্ষণের চারজন চাক্ষুষ সাক্ষী আদালতে হাজির করাতে পারেননি। মাত্র ২০০৬ সালের জুলাই মাসে প্রেসিডেণ্ট মুশাররফ এক হাজার নারীকে মুক্তি দিয়েছেন (‘ভোরের কাগজ’ ৯ জুলাই ২০০৬), এত বছরের জেলের ফলে এই হতভাগিনীদের জীবন ধ্বংস হল, এর জন্য দায়ী এই শারিয়া আইন। আরো দেখুন ‘দৈনিক স্টার, ৭ই জুলাই ২০০৩ – কল্যাণপুরে মা’কে বেঁধে কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের একমাত্র সাক্ষী হল মেয়ের মা, ধর্ষক হল স্থানীয় তিন লোক। এখন এই মামলা যদি শারিয়া কোর্টে ওঠে তবে শারিয়ার আইন অনুযায়ী এক নারীর সাক্ষ্যে ধর্ষকদের শাস্তি দেয়া সম্ভব নয়। গ্রামের নির্জন ধানক্ষেতে ধর্ষিতা অভাগিনীদের একলা সাক্ষ্যেও সম্ভব নয়। এ-ধরনের আরো বহু ঘটনা আমাদের দলিলে আছে। কোনো কোনো দেশে এ-আইন বদলানো হয়েছে, পাকিস্তানে এখনো হয়নি।

এবারে আসা যাক কোরাণ-হাদিসে।

নিসা-র ১৫ নম্বর আয়াত : − “ব্যাভিচারিণী নারীদের বিরুদ্ধে চারজন পুরুষকে সাক্ষী হিসাবে তলব কর।” কারণ হল − “এ শর্ত আরোপের কারণ, যাতে স্ত্রীর স্বামী, তার জননী অন্য স্ত্রী অথবা ভাই-বোন ব্যক্তিগত জীঘাংসার বশবর্তী হয়ে অহেতুক অপবাদ আরোপ করার সুযোগ না পায় অথবা অন্য অমঙ্গলকারী লোকেরা শত্র“তা-বশত অপবাদ আরোপ করতে সাহসী না হয়” (মওলানার মুহিউদ্দিনের বাংলা কোরাণের তফসির পৃঃ ২৩৯)।

পরের প্রমাণ আরও অকাট্য। দেখুন সুরা নূর আয়াত ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত। পঞ্চম হিজরিতে এক যুদ্ধ শেষে নবীজীর কাফেলা ফিরতি-পথে মদিনার কাছেই রাত্রি যাপনের জন্য থেমেছিল। তারপরে রওনা হবার সময় বিবি আয়েশা প্রাকৃতিক কারণে দূরে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে দেখেন তাঁ র গলার হারটি নেই। তিনি সেটা খুজঁ তে যাবার পর লোকেরা পালকির ভেতরে তিনি আছেন মনে করে পালকিটা উটের পিঠে চড়িয়ে রওনা হয়ে যায়। এ-দিকে তিনি হারটি পেয়ে ফিরে এসে কাফেলা না দেখে সেখানে অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েন এবং সারারাত ঘুমিয়ে থাকেন। সেকালে প্রতিটি কাফেলার কিছুটা পিছনে একজন লোক হেঁটে আসার রেওয়াজ ছিল, যাতে কিছু খোয়া গেলে তা পাওয়া যায়। এ- ক্ষেত্রে ছিলেন সাফওয়ান। তিনি পৌঁছলে বিবি আয়েশা সাফওয়ানের উটে চড়ে কাফেলার কাছে পৌঁছান। লম্বা সময় সাফওয়ানের সাথে একা ছিলেন বলে তখন সমাজে বিবি আয়েশার চরিত্র নিয়ে কানাঘুষা ও অপবাদ শুরু হয়। বিবি আয়েশা রাগে-দুঃখে বাপের বাড়ি চলে যান। মাসখানেক পর নবীজী তাঁর বাসায় এলে বিবি আয়েশা এবং তাঁর বাবা-মা এই তিনজনের সামনে সুরা নূরের ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত দশটা আয়াত নাজিল হয়। বিবি আয়েশা বলছেন : − “আলাহ আমার নির্দোষিতা প্রমাণের জন্যই কোরাণের ওই আয়াতগুলি নাজিল করিয়াছেন” (সহি বোখারি ৫ম খণ্ড পৃঃ ৩১৯ থেকে ৩২৯, হাদিস নম্বর ৪৬২, মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন খানের বোখারির অনুবাদ)।

তাহলে আমরা দেখলাম আয়াতগুলো এসেছিল নারীদেরকে পুরুষের হিংস্র ছোবল থেকে বাঁচানোর রক্ষাকবচ হিসেবে। বউগুলোকে চরিত্রহীনতার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আগে বেশ ঝেড়ে ফেলে পার পাওয়া যেত, এখন আনতে হবে চার-চারজন পুরুষ সাক্ষী। না হলে শাস্তি। অথচ নারী-রক্ষার সেই আয়াতের নামে নারী-বিরোধী আইন বানিয়ে চিরকালের জন্য মা-বোনের চাক্ষুষ সাক্ষ্যকে নির্লজ্জভাবে কি করে অস্বীকার করব আমরা ? এ-জন্যই বুঝি ডঃ ত্বাহা আল্ আলওয়ানী উদ্বিগড়ব হয়ে বলেছেন : “সামর্থ্য, ভুলিয়া যাইবার সম্ভাবনা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, সত্যভাষণ বা মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে নারীপুরুষের ষর কোনই ভেদাভেদ নাই। কোরাণে এমন কিছুই নাই যা দিয়া ওইরকম ধরা যাইতে পারে। সুতরাং, নরনারীর সাম্য ছাড়া অন্য কিছু বলিবার কোন যুক্তিই নাই”

http://www.crescentlife.com/thisthat/feminist%20muslims/testimony_of_women_islamic_law.htm

কে এই ডঃ ত্বাহা আল্ আলওয়ানী ? রাস্তার লোক ? মোটেই নয়। শখের ইসলামি পড়–য়া ? মোটেই নয়। স্বঘোষিত ইসলামি বিশেষজ্ঞ ? মোটেই নয়। তিনি পৃথিবীর সর্বোচ্চ মুসলিম-সংস্থা ও-আই-সি (দি অর্গানাইজেশন অব্ দি ইসলামিক কনফারেন্স)-এর ফিকাহ্ অ্যাকাডেমীর সদস্য, আমেরিকা-ক্যানাডা ফিকাহ্ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, এবং হেনডন ভার্জিনিয়ার স্কুল অব্ ইসলামিক অ্যাণ্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস্-এর প্রেসিডেণ্ট।

এ-জন্যই বুঝি নবীজী উদ্বিগড়ব হয়ে বলেছেন − “আমার অনুসারীদের জন্য আমার সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা পথভ্রষ্টকারী ইমামগণ নিয়ে” − সহি ইবনে মাজাহ ৫ম খণ্ড হাদিস ৩৯৫২, অতঃপর, একজন বিবেকবান মুসলমান হিসেবে আর কোন্ কোন্ প্রমাণ তুমি অস্বীকার করিবে ?

(সংগৃহীত) 


রুকু থেকে দাড়ানোর তাসবিহ

 এক. আরবি দোয়া : 

«سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ». 

বাংলা উচ্চারণ : সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ। 

বাংলা অর্থ : “যে আল্লাহর হামদ-প্রশংসা করে, আল্লাহ তার প্রশংসা শুনুন (কবুল করুন)।” [বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ২/২৮২, নং ৭৯৬।] 


দুই. আরবি দোয়া : 

«رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْداً كَثيراً طَيِّباً مُبارَكاً فِيهِ». 

বাংলা উচ্চারণ : রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু, হামদান কাছীরান ত্বায়্যিবান মুবা-রাকান ফীহি। 

বাংলা অর্থ : “হে আমাদের রব্ব! আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা; অঢেল, পবিত্র ও বরকত-রয়েছে-এমন প্রশংসা।” [বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ২/২৮৪, নং ৭৯৬।] 


তিন. আরবি দোয়া : 

«مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ، وَمَا بَيْنَهُمَا، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيءٍ بَعْدُ. أَهلَ الثَّناءِ وَالْمَجْدِ، أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ، وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ. اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ». 

বাংলা উচ্চারণ : মিল’আস সামা-ওয়া-তি ওয়া মিল’আল আরদি ওয়ামা বাইনাহুমা, ও মিল’আ মা শি’তা মিন শাইয়িন বা‘দু, আহলাস সানা-য়ি ওয়াল মাজদি, আহাক্কু মা ক্বালাল ‘আবদু, ওয়া কুল্লুনা লাকা ‘আবদুন, আল্লা-হুম্মা লা মানি‘আ লিমা আ‘ত্বাইতা, ওয়ালা মু‘তিয়া লিমা মানা‘তা, ওয়ালা ইয়ানফা‘য়ু যাল-জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু)। 

বাংলা অর্থ : “(আপনার প্রশংসা করছি) আসমানসমূহ পূর্ণ করে, যমীন পূর্ণ করে ও যা এ দু’টির মাঝে রয়েছে (তাও পূর্ণ করে), আর এর পরে যা পূর্ণ করা আপনার ইচ্ছা তা পূর্ণ করে। হে প্রশংসা ও সম্মান-মর্যাদার যোগ্য সত্ত্বা! বান্দা সবচেয়ে যে সঠিক কথাটি বলেছে তা হচ্ছে—আর আমরা সবাই আপনার বান্দা— হে আল্লাহ, আপনি যা প্রদান করেছেন তা বন্ধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রুদ্ধ করেছেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আর কোনো ক্ষমতা-প্রতিপত্তির অধিকারীর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি আপনার কাছে কোনো কাজে লাগবে না।” [মুসলিম, ১/৩৪৬; নং ৪৭৭।] 


মূল : ড. সাঈদ ইব্‌ন আলী ইব্‌ন ওয়াহফ আল-ক্বাহত্বানী অনুবাদ ও সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া গ্রন্থনা : মাওলানা মিরাজ রহমান সৌজন্যে : ইসলামহাউজ.কম

বোনের নাতনি বা ভাইয়ের নাতনিকে বিবাহ করা জায়েজ কিনা

 প্রশ্ন: মুহতারাম মুফতি সাহেব! আপন বোনের নাতনি অর্থাৎ আপন ভাগনির মেয়েকে বিয়ে করা যাবে কি না? না হলে কেন নয়? দয়া করে জানাবেন।

নিবেদক
মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

জবাব: আপন বোনের নাতনি অর্থাৎ আপন ভাগ্নীর মেয়েকে বিয়ে করা জায়েয নেই। পবিত্র কুরআনে যে সব মেয়েদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম ঘোষণা করা হয়েছে তাদের মধ্যে ভাগ্নী ও তার মেয়ে তথা বোনের বংশানুক্রমিক সকল অধস্তন মেয়েও অন্তর্ভূক্ত। তাই ভাগ্নীর মেয়েকে বিয়ে করা হারাম। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের মেয়ে, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, তোমাদের ভাইর মেয়ে, তোমাদের বোনের মেয়ে…(সুরা নিসা:২৩)

আর আয়াতে যদিও ভাগ্নীর মেয়ের কথা উল্লেখ নেই কিন্তু ভাগ্নীর মেয়ে হারাম হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে শরীয়তের বিশেষ মূলনীতি ও উম্মাহর সকল ইমামগণের ঐকমত্য সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। কারণ শরীয়তের মূলনীতি হচ্ছে, কুরআনের নস তথা হুকুম কখনো অর্থবোধকভাবে প্রমাণিত হয় যাকে উসুলবীদদের পরিভাষায় দালালাতুন নস (دلالة النص) বলে। উল্লেখিত আয়াতে ‘তোমাদের বোনের মেয়ে’ এ হুকুমটি ব্যাপকাত্মক। তাই মেয়ে বলতে বোনের মেয়ের সাথে সাথে তার অধস্তন সকল মেয়েরাও (‘মেয়ে’ অর্থের কারণে) অন্তর্ভূক্ত হবে।

এ বিষয়টিকে ফকীহগণ এভাবেই ব্যক্ত করেছেন যে, কোন ব্যক্তির জন্য তার উর্ধ্বতন আত্মীয় (أصله) তথা বাবা/মা ও অধস্তন আত্মীয় (فرعه) তথা ছেলে/মেয়ে (আবার তাদের সন্তানাদী, এভাবে নিচের দিকে সবাই) যেমন হারাম, ঠিক তেমনি উর্ধ্বতন আত্মীয়ের নিচের দিকের আত্মীয় (فرع أصله القريب) তথা ভাই/বোন এবং নিকট উর্ধ্বতনের অধস্তন আত্মীয় (والفرع القريب للأصل البعيد) তথা দাদার ছেলে/মেয়ে অর্থাৎ চাচা/ফুফি ইত্যাদিও ব্যক্তির জন্য হারাম। তাই কুরআন হাদীস উৎসারিত ফুকাহায়ে কেরামের উক্ত মূলনীতি অনুযায়ী বোনের মেয়ে অর্থাৎ ভাগ্নী এবং তার মেয়ে অর্থাৎ নাতনীকে বিয়ে করা হারাম সাব্যস্ত হয়।



المراجع والمصادر:
(১) القرآن الكريم، سورة النساء: ২৩
{حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ… إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا}.
(২) التفسير المظهرى ২/৫২
وبنات الأخ وبنات الأخت يعنى فروع الأخ والأخت بناتهما وبنات أبنائهما وبنات بناتهما وإن سفلن سواء كان الأخ والأخت لأبوين أو لأحدهما، ذكرالله سبحانه المحرمات من النسب سبعا، ويؤول أمرهن إلى أربعة أصناف أصله، وفرعه، وفرع أصله القريب وإن بعد، والفرع القريب للأصل البعيد…
(৩) بدائع الصنائع ২/৫৩০ زكريا،
وتحرم بنات بناته وبنات أبنائه وإن سفلن بدلالة النص؛ لأنهن أقرب من بنات الأخ وبنات الأخت ومن الأخوات أيضا؛ لأن الأخوات أولاد أبيه وهن أولاد أولاده فكان ذكر الحرمة هناك ذكرا للحرمة ههنا دلالة وعليه إجماع الأمة أيضا،
(৪) الفتاوى الهندية১/৩৩৯ زكريا،
(৫) روح المعانى ৪/৬৩৫، دار الحديث.
(৬) فتاوی محمودیہ :১৬/৪৩৬
نواسی سے نکاح۔ جس طرح اپنی حقیقی بہن سے نکاح حرام ہے، اسی طرح حقیقی بہن کی لڑکی اور اس لڑکی کی لڑکی سے بھی حرام ہے۔


উত্তর লিখনে
মুফতি আবুল ফাতাহ কাসেমি
উস্তাদ, জামিয়া কারীমিয়া আরাবিয়া রামপুরা, ঢাকা।

যাকাত বিস্তারিত

যাকাত


যাকাত (আরবিزكاة‎‎ zakāt, "যা পরিশুদ্ধ করে", আরও আরবিزكاة ألمال‎‎, "সম্পদের যাকাত"[১]) হলো ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের একটি। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতি বছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ, যদি তা ইসলামী শরিয়ত নির্ধারিত সীমা (নিসাব পরিমাণ) অতিক্রম করে তবে[২], গরীব-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে যাকাত বলা হয়।[৩][৪] সাধারণত নির্ধারিত সীমার অধিক সম্পত্তি হিজরি ১ বছর ধরে থাকলে মোট সম্পত্তির ২.৫ শতাংশ (২.৫%) বা ১/৪০ অংশ[৫][৬][৭] বিতরণ করতে হয়। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে হজ্জ্ব এবং যাকাত শুধুমাত্র শর্তসাপেক্ষ যে, তা সম্পদশালীদের জন্য ফরয বা আবশ্যিক হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে "যাকাত" শব্দের উল্লেখ এসেছে ৩২ বার। নামাজের পরে সবচেয়ে বেশি বার এটি উল্লেখ করা হয়েছে।[৮]

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

যাকাত زكاة এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ ‎‎ “পরিশুদ্ধকরণ, পবিত্র করা, বৃদ্ধি পাওয়া, বরকত হওয়া ইত্যাদি ”। যেমন কোরআনে বর্ণিত রয়েছে:

والزكاة بمعنى: المدح، قال الله تعالى: فلا تزكوا أنفسكم

যাকাত এর পরিভাষিক অর্থ:

নিজ অর্জিত ধন-সম্পদ থেকে আল্লাহ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট ও ফরজকৃত অংশ দেওয়া। যেমন ফুকাহায়ে কেরাম বলেন:

والزكاة في اصطلاح علماء الفقه هي: حصة من المال يجب دفعه للمستحقين

أو: الجزء المخصص للفقير والمحتاج من أموال الغني أو

هي: تمليك المال من فقير مسلم غير هاشمي، ولا مولاه بشرط قطع المنفعة عن المملك من كل وجه لله تعالى

হাশিমী বংশের লোক ব্যতীত কোন গরিব মুসলমানকে মালের মালিক বানিয়ে দেওয়া। এবং মনিব গোলাম থেকে কোন উপকার নেওয়ার শর্ত করা ব্যতীত। একমাত্র আল্লাহকে রাজী-খুশী করার উদ্দেশ্যে।[৯]

যাকাতের শর্তসমূহ[সম্পাদনা]

স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে কতিপয় শর্তসাপেক্ষে তার উপর যাকাত ফরয হয়ে থাকে।[১০] যেমন:

১. সম্পদের উপর পূর্ণ মালিকানা
সম্পদের উপর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য সম্পদের মালিকানা সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ সম্পদ, মালিকের অধিকারে থাকা, সম্পদের উপর অন্যের অধিকার বা মালিকানা না থাকা এবং নিজের ইচ্ছামতো সম্পদ ভোগ ও ব্যবহার করার পূর্ণ অধিকার থাকা। যেসকল সম্পদের মালিকানা সুসস্পষ্ট নয়, সেসকল সম্পদের কোনো যাকাত নেই, যেমন: সরকারি মালিকানাধীন সম্পদ। অনুরূপভাবে জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ওয়ক্‌ফকৃত সম্পদের উপরেও যাকাত ধার্য হবে না। তবে ওয়াক্‌ফ যদি কোনো ব্যক্তি বা গোত্রের জন্য হয়, তবে তার উপর যাকাত দিতে হবে।
২. সম্পদ উৎপাদনক্ষম হওয়া
যাকাতের জন্য সম্পদকে অবশ্যই উৎপাদনক্ষম, প্রবৃদ্ধিশীল হতে হবে, অর্থাৎ সম্পদ বৃদ্ধি পাবার যোগ্যতাই যথেষ্ট। যেমন: গরু, মহিষ, ব্যবসায়ের মাল, নগদ অর্থ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ক্রীত যন্ত্রপাতি ইত্যাদি মালামাল বর্ধনশীল।[১১] অর্থাৎ যেসকল মালামাল নিজের প্রবৃদ্ধি সাধনে সক্ষম নয়, সেসবের উপর যাকাত ধার্য হবে না, যেমন: ব্যক্তিগত ব্যবহারের মালামাল, চলাচলের বাহন ইত্যাদি।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদ
যাকাত ফরয হওয়ার তৃতীয় শর্ত হচ্ছে শরীয়ত নির্ধারিত সীমাতিরিক্ত সম্পদ থাকা। সাধারণ ৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা উভয়টি মিলে ৫২.৫ তোলা রূপার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে সে সম্পদের যাকাত দিতে হয়। পশুর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বিভিন্ন (বিস্তারিত: 'যাকাত প্রদানের নিয়ম' দ্রষ্টব্য)।
৪. মৌলিক প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ থাকা
সারা বছরের মৌলিক প্রয়োজন মিটিয়ে যে সম্পদ উদ্ধৃত থাকবে, শুধুমাত্র তার উপরই যাকাত ফরয হবে। এপ্রসঙ্গে আল-কুরআনে উল্লেখ রয়েছে:

লোকজন আপনার নিকট (মুহাম্মদের [স.] নিকট) জানতে চায়, তারা আল্লাহর পথে কী ব্যয় করবে? বলুন, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত। আল্লাহ এভাবেই তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট বিধান বলে দেন।[১২]

মুহাম্মদের [স.] সহচর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস [রা.] বলেছেন,

জনাব ইউসুফ আল কারযাভী'র মতে স্ত্রী, পুত্র, পরিজন, ও পিতামাতা এবং নিকটাত্মীয়দের ভরণ-পোষণও মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত।[১৪]

৫. ঋণমুক্ততা
নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলেও ব্যক্তির ঋণমুক্ততা, যাকাত ওয়াজিব হওয়ার অন্যতম শর্ত। যদি সম্পদের মালিক এত পরিমাণ ঋণগ্রস্থ হন যা, নিসাব পরিমাণ সম্পদও মিটাতে অক্ষম বা নিসাব পরিমাণ সম্পদ তার চেয়ে কম হয়, তার উপর যাকাত ফরয হবে না। ঋণ পরিশোধের পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই কেবল যাকাত ওয়াজিব হয়। তবে এক্ষেত্রে দ্বিতীয় মতটি হলো: যে ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয় সে ঋণের ক্ষেত্রে যেবছর যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করতে হয়, সেবছর সে পরিমাণ ঋণ বাদ দিয়ে বাকিটুকুর উপর যাকাত দিতে হয়। কিন্তু ঋণ বাবদ যাকাত অব্যাহতি নেয়ার পর অবশ্যই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় সে সম্পদের উপর যাকাত দিতে হবে।
৬. সম্পদ এক বছর আয়ত্তাধীন থাকা
নিসাব পরিমাণ স্বীয় সম্পদ ১ বছর নিজ আয়ত্তাধীন থাকা যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পূর্বশর্ত।[১৫] তবে কৃষিজাত ফসল, খনিজ সম্পদ ইত্যাদির যাকাত (উশর) প্রতিবার ফসল তোলার সময়ই দিতে হবে। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ও কোম্পানীর ক্ষেত্রে বছর শেষে উদ্বর্তপত্রে (Balance Sheet) বর্ণিত সম্পদ ও দায়-দেনা অনুসারে যাকাতের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

বিশেষ ক্ষেত্রে যাকাত[সম্পাদনা]

  • অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পাগলের যাকাত: সম্পদের মালিক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা পাগল হলে, তার যাকাত তার আইনানুগ অভিভাবককে আদায় করতে হবে।
  • যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তির যাকাত: কোনো সম্পদে যৌথ মালিকানা থাকলে সম্পদের প্রত্যেক অংশীদার তার স্ব স্ব অংশের উপরে যাকাত দিবেন, যদি তা নিসাব পরিমাণ হয় বা তার অতিরিক্ত হয়। অর্থাৎ সম্পদের স্বীয় অংশের মূল্য অন্যান্য সম্পদের সাথে যোগ করে হিসাব করে যদি দেখা যায় তা নিসাব পরিমাণ হয়েছে বা অতিক্রম করেছে, তবে যাকাত দিতে হবে।
  • নির্ধারিত যাকাত: যাকাত নির্ধারিত হওয়াসত্ত্বেয় পরিশোধের আগেই সম্পদের মালিকের মৃত্যু হলে তার উত্তরাধিকারগণ অথবা তার তত্ত্বাবধায়ক তার সম্পত্তি থেকে প্রথমে যাকাত বাবদ পাওনা ও কোনো ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করবেন। এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তি, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টিত হবে।
  • তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে ন্যস্ত সম্পদের যাকাত: মালিকের পক্ষ থেকে নিয়োগকৃত আইনানুগ তত্ত্বাবধায়কের কাছে সম্পত্তি ন্যস্ত থাকলে মালিকের পক্ষে উক্ত তত্ত্বাবধায়ক সে যাকাত পরিশোধ করবেন।
  • বিদেশস্থ সম্পদের যাকাত: যাকাত ওয়াজিব হবার জন্য সম্পত্তি নিজ দেশে থাকা শর্ত নয়। বরং সম্পত্তি অন্য দেশে থাকলেও তার উপর যাকাত দিতে হবে। তবে উক্ত দেশ ইসলামী রাষ্ট্র হলে এবং দেশের সরকার যাবতীয় সম্পদের উপর যাকাত দিলে তা আর আলাদা করে দিতে হবে না।

যাকাত বণ্টনের খাতসমূহ[সম্পাদনা]

পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নাম্বার আয়াতে যাকাত বণ্টনে আটটি খাত আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন করেছেন।[১৬] । এই খাতগুলো সরাসরি কুরআন দ্বারা নির্দিষ্ট এবং যেহেতু তা আল্লাহর নির্দেশ, তাই এর বাইরে যাকাত বণ্টন করলে তা ইসলামী শরিয়তসম্মত হয় না।[১৭][ক]

  1. ফকির (যার কিছুই নেই)[১৮]
  2. মিসকীন(যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই) [১৮]
  3. যাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী (যার অন্য জীবিকা নেই) [১৮]
  4. নওমুসলিমদের(আর্থিক সংকটে থাকলে) [১৯]
  5. ক্রীতদাস(মুক্তির উদ্দেশ্যে)
  6. ধনী সম্পদশালী ব্যক্তি যার সম্পদের তুলনায় ঋণ বেশি
  7. (স্বদেশে ধনী হলেও বিদেশে) আল্লাহর পথে জেহাদে রত ব্যক্তি
  8. মুসাফির (যিনি ভ্রমণকালে অভাবে পতিত)

হাদিসমতে, এগুলো ফরয সাদকাহের খাত, এবং নফল সাদকাহ এই আট খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পরিসর আরো প্রশস্ত।[২০] উল্লেখিত খাতসমূহে যাকাত বণ্টন করতে হয় সঠিক পন্থায়। অনেকে যাকাতের অর্থে শাড়ি ক্রয় করে তা বণ্টন করে থাকেন। এভাবে যাকাত আদায় হয়ে গেলেও আসলে প্রকৃতপক্ষে যাকাত গ্রহণকারীর তেমন উপকার হয় না। তাই যাকাত বণ্টনের উত্তম পন্থা হলো: যাকাত যাদেরকে প্রদান করা যায়, তাদের একজনকেই বা একটি পরিবারকেই যাকাতের সম্পূর্ণ অর্থ দিয়ে স্বাবলম্বী করে দেয়া।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

যাকাত গণনার নিয়ম[সম্পাদনা]

ধর্মীয়ভাবে প্রতিজন মুসলমানকে তার যাবতীয় আয়-ব্যয়-সম্পদের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব সংরক্ষণ করতে হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] হিসাব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাৎসরিক ভিত্তি একটি মৌলিক ধারণা। অর্থাৎ বছরের একটা নির্দিষ্ট দিন থেকে পরবর্তি বছরের একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত যাবতীয় আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখতে হয়। এই 'দিন' বাছাই করার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে, কোন মাসে দিন নির্ধারণ করতে হবে। সাধারণত কেউ কেউ হিসাব সংরক্ষণের সুবিধার্থে হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের কোনো দিন কিংবা অধিক পূণ্যের আশায় রমজান মাসের কোনো দিন বাছাই করে থাকেন। এই হিসাব সংরক্ষণ হতে হবে যথেষ্ট সূক্ষ্মতার সাথে। সংরক্ষিত হিসাবের প্রেক্ষিতে ইসলাম ধর্মের নিয়মানুযায়ী নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলে তবেই উক্ত ব্যক্তির উপর যাকাত দেয়া বাধ্যতামূলক (ফরয) হয়, অন্যথায় যাকাত দিতে হয় না।

যাকাত প্রদানের নিয়ম[সম্পাদনা]

যাকাতের 'নিসাব পরিমাণ' বিভিন্ন দ্রব্যাদির ক্ষেত্রে বিভিন্ন হয়। নিচে এসংক্রান্ত বিস্তারিত দেয়া হলো[১৯][২১]:

বিষয়নিসাব (সর্বনিম্ন পরিমাণ)যাকাতের হার
নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা এবং ব্যবসায়িক পণ্য৫২.৫ তোলা রূপার মূল্যমানসম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%
স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা সোনা-রূপার অলংকারসোনা ৭.৫ তোলা এবং রূপা ৫২.৫ তোলাসম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%
কৃষিজাত দ্রব্যআবু হানিফার মতে, যেকোনো পরিমাণ;
অন্যান্যদের মতে, ৫ ওয়াসাক বা ২৬ মণ ১০ সের;
ইসলামিক ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ব্যুরো'র মতে, ১৫৬৮ কেজি
বৃষ্টিতে উৎপাদিত দ্রব্যের ১০%
খনিজ দ্রব্যযেকোনো পরিমাণদ্রব্যের ২০%
ভেড়া-ছাগল৪০-১২০টি
১২১-২০০টি
২০১-৪০০টি
৪০০-৪৯৯টি
৫০০ বা ততোধিক
১টি ভেড়া বা ছাগল
২টি ভেড়া বা ছাগল
৩টি ভেড়া বা ছাগল
৪টি ভেড়া বা ছাগল
৫টি ভেড়া বা প্রতি শ'তে ১টি
গরু-মহিষ৩০-৩৯টি
৪০-৪৯টি
৫০-৫৯টি
৬০-৬৯টি
৭০-৭৯টি
৮০-৮৯টি
৯০-৯৯টি
১০০-১১৯টি
১টি এক বছরের বাছুর
১টি দুই বছরের বাছুর
২টি দুই বছরের বাছুর
১টি তিন বছরের এবং ১টি দুই বছরের বাছুর
২টি তিন বছরের বাছুর
৩টি দুই বছরের বাছুর
১টি তিন বছরের এবং ২টি দুই বছরের বাছুর
দুই বছরের বাছুর -এভাবে ঊর্ধ্বে হিসাব হবে
উট৫-৯টি
১০-১৪টি
১৫-১৯টি
২০-২৪টি
২৫-৩৫টি
৩৬-৪৫টি
৪৬-৬০টি
৬১-৭৫টি
৭৯-৯০টি
৯১-১২০টি
১২১-১২৯টি
১৩০-১৩৪টি
১৩৫-১৩৯টি
১৪০-১৪৪টি
১৪৫-১৪৯টি
১৫০ এবং তদুর্ধ্ব
১টি তিন বছরের খাশি অথবা ১টি এক বছরের বকরি
২টি এক বছরের বকরি
৩টি এক বছরের বকরি
৪টি এক বছরের বকরি
৪টি এক বছরের মাদী উট
২টি তিন বছরের মাদী উট
২টি চার বছরের মাদী উট
১টি পাঁচ বছরের মাদী উট
২টি তিন বছরের মাদী উট
২টি চার বছরের মাদী উট
২টি চার বছরের মাদী উট এবং ১টি ছাগল
২টি চার বছরের মাদী উট এবং ২টি ছাগল
২টি চার বছরের মাদী উট এবং ৩টি ছাগল
২টি চার বছরের মাদী উট এবং ৪টি ছাগল
২টি চার বছরের মাদী উট এবং ১টি দুই বছরের উট
৩টি ৪ বছরের মাদী উট এবং প্রতি ৫টিতে ১টি ছাগল
ঘোড়া(এক্ষেত্রে তিনটি মত পাওয়া যায়)যাকাত নেই
কিংবা সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%
কিংবা প্রতিটি ঘোড়ার জন্য ১ দিনার পরিমাণ অর্থ
শেয়ার, ব্যাংক নোট, স্টক৫২.৫ তোলা রূপার মূল্যমানসম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%, তবে কোম্পানী যাকাত দিলে ব্যক্তিগতভাবে যাকাত দিতে হবে না
অংশীদারী কারবার ও মুদারাবা৫২.৫ তোলা রূপার মূল্যমানপ্রথমে সম্পত্তির যাকাত দিতে হবে, মূলধনের নয়; এরপর লাভ বন্টিত হবে। যাকাত ব্যক্তিগতভাবে লাভের উপর হবে, একভাগ (২.৫%) দিবে মূলধন সরবরাহকারী এবং একভাগ (২.৫%) দিবে শ্রমদানকারী।

যাকাতমুক্ত সম্পদ[সম্পাদনা]

যাকাতমুক্ত সম্পদ সম্পর্কে ইসলাম ধর্মের বাণীবাহক মুহাম্মদ [স.] বলেছেন, বাসস্থানের জন্য নির্মিত ঘরসমূহ, ঘরে ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, আরোহণের জন্য পশু, চাষাবাদ ও অন্যান্য আবশ্যকীয় কাজে ব্যবহৃত পশু ও দাস-দাসী, কাঁচা তরিতরকারিসমূহ এবং মৌসুমী ফলসমূহ যা বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না, অল্পদিনে নষ্ট হয়ে যায়, এমন ফসলে যাকাত নেই।[২২] যদিও হানাফি মাযহাব অনুসারে নিজে নিজে উৎপন্ন দ্রব্যাদি, যথা বৃক্ষ, ঘাস এবং বাঁশব্যতীত অন্য সমস্ত শস্যাদি, তরিতরকারি ও ফলসমূহের যাকাত দিতে হয়। হাদিসের আলোকে যেসকল সম্পদসমূহকে যাকাত থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, সেগুলো হলো: জমি ও বাড়িঘর; মিল, ফ্যাক্টরি, ওয়্যারহাউজ বা গুদাম ইত্যাদি; দোকান; এক বছরের কম বয়সের গবাদি পশু; ব্যবহার্য যাবতীয় পোশাক; বই, খাতা, কাগজ ও মুদ্রিত সামগ্রী; গৃহের যাবতীয় আসবাবপত্র, বাসন-কোসন ও সরঞ্জামাদি, তৈলচিত্র ও স্ট্যাম্প; অফিসের যাবতীয় আসবাব, যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও নথি; গৃহপালিত সকলপ্রকার মুরগী ও পাখি; কলকব্জা, যন্ত্রপাতি ও হাতিয়ার ইত্যাদি যাবতীয় মূলধনসামগ্রী; চলাচলের যন্তু ও গাড়ি; যুদ্ধাস্ত্র ও যুদ্ধ-সরঞ্জাম; ক্ষণস্থায়ী বা পঁচনশীল যাবতীয় কৃষিপণ্য; বপন করার জন্য সংরক্ষিত বীজ; যাকাতবর্ষের মধ্যে পেয়ে সেবছরই ব্যয়িত সম্পদ; দাতব্য বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, যা জনস্বার্থে নিয়োজিত; সরকারি মালিকানাধীন নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য এবং অন্যান্য সম্পদ।[১৩] যে ঋণ, ফেরত পাবার আশা নেই (স্থায়ী কুঋণ), তার উপর যাকাত ধার্য হবে না।

মুসলিম দেশে যাকাত অবস্থা[২৩][সম্পাদনা]

৫৭-টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলির মধ্যে লিবিয়া, মালয়েশিয়াপাকিস্তানসৌদি আরবসুদান এবং ইয়েমেন এই ছয়টি দেশে জাকাত বাধ্যতামূলক এবং রাষ্ট্র কর্তৃক সংগৃহীত।[২৪][২৫][২৬][২৭]


দেশঅবস্থা
 আফগানিস্তানকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 আলজেরিয়াকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 আজারবাইজানকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 বাহরাইনঐচ্ছিক
 বাংলাদেশঐচ্ছিক
 বুর্কিনা ফাসোকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 চাদকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 মিশরঐচ্ছিক
 গিনিকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 ইন্দোনেশিয়াঐচ্ছিক
 ইরানঐচ্ছিক
 ইরাককোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 জর্দানঐচ্ছিক
 কাজাখস্তানকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 কুয়েতঐচ্ছিক
 লেবাননঐচ্ছিক
 লিবিয়াআবশ্যিক
 মালয়েশিয়াআবশ্যিক
 মালিকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 মৌরিতানিয়াকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 মরক্কোকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 নাইজারকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 নাইজেরিয়াকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 ওমানকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 পাকিস্তানআবশ্যিক
 কাতারকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 সৌদি আরবআবশ্যিক
 সেনেগালকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 সিয়েরা লিওনকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 সোমালিয়াকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 সুদানআবশ্যিক
 সিরিয়াকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 তাজিকিস্তানকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 গাম্বিয়াকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 তিউনিসিয়াকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 তুরস্ককোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 তুর্কমেনিস্তানকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 সংযুক্ত আরব আমিরাতঐচ্ছিক
 উজবেকিস্তানকোন সরকারী ব্যবস্থা নেই
 ইয়েমেনআবশ্যিক



যাকাত বণ্টনের খাত ৮ টি

মহান আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআন মাজীদে যাকাত প্রদানের ৮টি খাত উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِيْنِ وَالْعَامِلِيْنَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَفِيْ الرِّقَابِ وَالْغَارِمِيْنَ وَفِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَابْنِ السَّبِيْلِ فَرِيْضَةً مِّنَ اللهِ وَاللهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ-
‘নিশ্চয়ই ছাদাক্বাহ্ (যাকাত) হচ্ছে ফকীর ও মিসকীনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য; (তা বণ্টন করা যায়) দাস আযাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্ল­াহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত, আর আল্লাহ  মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়’ (তওবা ৯/৬০)
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা যাকাত প্রদানের ৮টি খাত উল্লেখ করেছেন। নিম্নে প্রত্যেকটি খাত আলাদাভাবে আলোচনা করা হল-
(১) ফকীর : নিঃসম্বল ভিক্ষাপ্রার্থী। যাকে আল্লাহ তা‘আলা যাকাতের ৮টি খাতের প্রথমেই উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রতিনিয়ত দারিদ্র্য থেকে আল্লাহর নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেন, اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ ‘ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কুফরী ও দারিদ্র্য থেকে আশ্রয় চাচ্ছি’।[1] অতএব ফকীর যাকাতের মাল পাওয়ার হকদার। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
إِنْ تُبْدُوْا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوْهَا وَتُؤْتُوْهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ-  
‘তোমরা যদি প্রকাশ্যে ছাদাক্বাহ প্রদান কর তবে উহা ভাল; আর যদি তা গোপনে কর এবং দরিদ্রদেরকে দাও তা তোমাদের জন্য আরো ভাল’ (বাক্বারাহ ২/২৭১)
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِيْ أَمْوَالِهِمْ، تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ-
‘আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর তাদের সম্পদে ছাদাক্বাহ্ (যাকাত) ফরয করেছেন। যেটা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত হবে আর তাদের দরিদ্রের মাঝে বণ্টন হবে’।[2]
(২) মিসকীন : যাকাত প্রদানের ৮টি খাতের মধ্যে দ্বিতীয় খাত হিসাবে আল্লাহ তা‘আলা মিসকীনকে উল্লেখ করেছেন। আর মিসকীন হল ঐ ব্যক্তি যে নিজের প্রয়োজন মিটাতেও পারে না, মুখ ফুটে চাইতেও পারে না। বাহ্যিকভাবে তাকে সচ্ছল বলেই মনে হয়। হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رضى الله عنه أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيْسَ الْمِسْكِيْنُ الَّذِى يَطُوْفُ عَلَى النَّاسِ تَرُدُّهُ اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ وَالتَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ، وَلَكِنِ الْمِسْكِيْنُ الَّذِى لاَ يَجِدُ غِنًى يُغْنِيْهِ، وَلاَ يُفْطَنُ بِهِ فَيُتَصَدَّقُ عَلَيْهِ، وَلاَ يَقُوْمُ فَيَسْأَلُ النَّاسَ-
আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, এমন ব্যক্তি মিসকীন নয় যে এক মুঠো-দু’মুঠো খাবারের জন্য বা দুই একটি খেজুরের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় এবং তাকে তা দেওয়া হলে ফিরে আসে। বরং প্রকৃত মিসকীন হল সেই ব্যক্তি যার প্রয়োজন পূরণ করার মত যথেষ্ট সঙ্গতী নেই। অথচ তাকে চেনাও যায় না যাতে লোকে তাকে ছাদাক্বাহ্ করতে পারে এবং সে নিজেও মানুষের নিকট কিছু চায় না।[3]
(৩) যাকাত আদায়কারী ও হেফাযতকারী : আল্লাহ তা‘আলা যাকাত প্রদানের তৃতীয় খাত হিসাবে ঐ ব্যক্তিকে উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তি যাকাত আদায়, হেফাযত ও বণ্টনের কাজে নিয়োজিত। অতএব উক্ত ব্যক্তি সম্পদশালী হলেও সে চাইলে যাকাতের অংশ গ্রহণ করতে পারবে।[4]
হাদীছে এসেছে,
عَنِ ابْنِ السَّاعِدِىِّ الْمَالِكِىِّ أَنَّهُ قَالَ اسْتَعْمَلَنِيْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه عَلَى الصَّدَقَةِ فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْهَا وَأَدَّيْتُهَا إِلَيْهِ أَمَرَ لِيْ بِعُمَالَةٍ فَقُلْتُ إِنَّمَا عَمِلْتُ لِلَّهِ وَأَجْرِى عَلَى اللهِ، فَقَالَ خُذْ مَا أُعْطِيْتَ فَإِنِّيْ عَمِلْتُ عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَعَمَّلَنِيْ فَقُلْتُ مِثْلَ قَوْلِكَ فَقَالَ لِيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أُعْطِيْتَ شَيْئًا مِنْ غَيْرِ أَنْ تَسْأَلَ فَكُلْ وَتَصَدَّقْ-
ইবনু সায়ে‘দী আল-মালেকী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আমাকে যাকাত আদায়কারী হিসাবে নিযুক্ত করলেন। যখন আমি কাজ শেষ করলাম এবং তাঁর কাছে পৌঁছিয়ে দিলাম তখন তিনি নির্দেশ দিলেন আমাকে পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য। আমি বললাম, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমি ইহা করেছি। সুতরাং আমি আল্লাহর নিকট থেকেই এর প্রতিদান নেব। তিনি বললেন, আমি যা দিচ্ছি তা নিয়ে নাও। কেননা আমিও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সময় যাকাত আদায়কারীর কাজ করেছি। তখন তিনিও আমাকে পারিশ্রমিক প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন আমিও তোমার মত এরূপ কথা বলেছিলাম। রাসূল (ছাঃ) আমাকে বলেছিলেন, যখন তুমি না চাওয়া সত্ত্বেও তোমাকে কিছু দেওয়া হয়, তখন তুমি তা গ্রহণ কর। তুমি তা নিজে খাও অথবা ছাদাক্বাহ্ কর।[5]
অন্য হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِىٍّ إِلاَّ لِخَمْسَةٍ لِغَازٍ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ أَوْ لِعَامِلٍ عَلَيْهَا أَوْ لِغَارِمٍ أَوْ لِرَجُلٍ اشْتَرَاهَا بِمَالِهِ أَوْ لِرَجُلٍ كَانَ لَهُ جَارٌ مِسْكِيْنٌ فَتُصُدِّقَ عَلَى الْمِسْكِيْنِ فَأَهْدَاهَا الْمِسْكِيْنُ لِلْغَنِىِّ
আতা ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, সম্পদশালী ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ হালাল নয়। তবে পাঁচ শ্রেণীর ধনীর জন্য তা জায়েয। (১) আল্লাহর পথে জিহাদরত ব্যক্তি। (২) যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী। (৩) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। (৪) যে ব্যক্তি যাকাতের মাল নিজ মাল দ্বারা ক্রয় করেছে এবং (৫) মিসকীন প্রতিবেশী তার প্রাপ্ত যাকাত থেকে ধনী ব্যক্তিকে উপঢৌকন দিয়েছে।[6]
(৪) ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য কোন অমুসলিমকে যাকাত প্রদান করা : ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে অথবা কোন অনিষ্ট বা কাফেরের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে কোন অমুসলিমকে যাকাতের অর্থ প্রদান করা যায়।[7]
হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ بَعَثَ عَلِىٌّ رضى الله عنه وَهُوَ بِالْيَمَنِ بِذَهَبَةٍ فِيْ تُرْبَتِهَا إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَسَمَهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَرْبَعَةِ نَفَرٍ الأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ الْحَنْظَلِىُّ وَعُيَيْنَةُ بْنُ بَدْرٍ الْفَزَارِىُّ وَعَلْقَمَةُ بْنُ عُلاَثَةَ الْعَامِرِىُّ ثُمَّ أَحَدُ بَنِيْ كِلاَبٍ وَزَيْدُ الْخَيْرِ الطَّائِىُّ ثُمَّ أَحَدُ بَنِيْ نَبْهَانَ قَالَ فَغَضِبَتْ قُرَيْشٌ فَقَالُوْا أَتُعْطِى صَنَادِيْدَ نَجْدٍ وَتَدَعُنَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّيْ إِنَّمَا فَعَلْتُ ذَلِكَ لأَتَأَلَّفَهُمْ فَجَاءَ رَجُلٌ كَثُّ اللِّحْيَةِ مُشْرِفُ الْوَجْنَتَيْنِ غَائِرُ الْعَيْنَيْنِ نَاتِئُ الْجَبِيْنِ مَحْلُوْقُ الرَّأْسِ فَقَالَ اتَّقِ اللهَ يَا مُحَمَّدُ قَالَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَمَنْ يُطِعِ اللهَ إِنْ عَصَيْتُهُ أَيَأْمَنُنِيْ عَلَى أَهْلِ الأَرْضِ وَلاَ تَأْمَنُوْنِيْ قَالَ ثُمَّ أَدْبَرَ الرَّجُلُ فَاسْتَأْذَنَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فِيْ قَتْلِهِ يُرَوْنَ أَنَّهُ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيْدِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمًا يَقْرَءُوْنَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَقْتُلُوْنَ أَهْلَ الإِسْلاَمِ وَيَدَعُوْنَ أَهْلَ الأَوْثَانِ يَمْرُقُوْنَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لأَقْتُلَنَّهُمْ قَتْلَ عَادٍ-
আবু সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রাঃ) নবী (ছাঃ)-এর নিকট কিছু স্বর্ণের টুকরো পাঠালেন। তিনি তা চার ব্যক্তির মাঝে বণ্টন করে দিলেন। (১) আল-আকরা ইবনু হানযালী যিনি মাজায়েশী গোত্রের লোক ছিলেন। (২) উআইনা ইবনু বাদার ফাযারী। (৩) যায়েদ ত্বায়ী, যিনি পরে বনী নাবহান গোত্রের ছিলেন। (৪) আলকামাহ ইবনু উলাছাহ আমেরী, যিনি বনী কিলাব গোত্রের ছিলেন। এতে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হলেন এবং বলতে লাগলেন, নবী (ছাঃ) নজদবাসী নেতৃবৃন্দকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে দিচ্ছেন না। তখন নবী (ছাঃ) বললেন, আমি তো তাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য এমন মনরঞ্জন করছি। তখন এক ব্যক্তি সামনে এগিয়ে আসল, যার চোখ দু’টি কোটরাগত, গন্ডদ্বয় ঝুলে পড়া, কপাল উঁচু, ঘন দাড়ি এবং মাথা মোড়ানো ছিল। সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহকে ভয় করুন। তখন তিনি বললেন, আমিই যদি নাফরমানী করি তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর উপর আমানতদার বানিয়েছেন, আর তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। (আবু সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, আমি তাকে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ বলে ধারণা করছি। কিন্তু নবী (ছাঃ) তাকে নিষেধ করলেন। অতঃপর যখন অভিযোগকারী লোকটি ফিরে গেল, তখন নবী (ছাঃ) বললেন, এ ব্যক্তির বংশ হতে বা এ ব্যক্তির পরে এমন কিছু সংখ্যক লোক হবে তারা কুরআন পড়বে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। দ্বীন হতে তারা এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমনি ধনুক হতে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে হত্যা করবে আর মুর্তি পূজারীদেরকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকবে। আমি যদি তাদেরকে পেতাম তাহলে তাদেরকে আদ জাতির মত অবশ্যই হত্যা করতাম।[8]
(৫) দাস মুক্তির জন্য : যারা লিখিত কোন চুক্তির বিনিময়ে দাসে পরিণত হয়েছে। তাদেরকে মালিকের নিকট থেকে ক্রয়ের মাধ্যমে মুক্ত করার লক্ষ্যে যাকাতের অর্থ প্রদান করা যায়। অনুরূপভাবে বর্তমানে কোন মুসলিম ব্যক্তি অমুসলিমদের হাতে বন্দি হলে সে ব্যক্তিও এই খাতের অন্তর্ভুক্ত হবে।[9]
হাদীছে এসেছে,
عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ دُلَّنِيْ عَلَى عَمَلٍ يُقَرِّبُنِيْ مِنَ الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُنِيْ مِنَ النَّارِ قَالَ لَئِنْ كُنْتَ أَقْصَرْتَ الْخُطْبَةَ لَقَدْ أَعْرَضْتَ الْمَسْأَلَةَ أَعْتِقِ النَّسَمَةَ وَفُكَّ الرَّقَبَةَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَوَلَيْسَا وَاحِدًا قَالَ لاَ عِتْقُ النَّسَمَةِ أَنْ تُفْرِدَ بِعِتْقِهَا وَفَكُّ الرَّقَبَةِ أَنْ تُعِيْنَ فِيْ ثَمَنِهَا وَالْمِنْحَةُ الْوَكُوْفُ وَالْفَىْءُ عَلَى ذِى الرَّحِمِ الظَّالِمِ فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذَلِكَ فَكُفَّ لِسَانَكَ إِلاَّ مِنْ خَيْرٍ-
বারা ইবনু আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। রাসূল (ছাঃ) বললেন, প্রশ্ন তো তুমি অল্প কথায় বলে ফেললে; কিন্তু তুমি অত্যন্ত ব্যাপক বিষয় জানতে চেয়েছ। তুমি একটি প্রাণী আযাদ করে দাও এবং একটি দাস মুক্ত করে দাও। লোকটি বলল, এ উভয়টি কি একই কাজ নয়? তিনি বললেন, না (উভয়টি এক নয়)। কেননা একটি প্রাণী আযাদ করার মানে হল, তুমি একাকী গোটা প্রাণীকে মুক্ত করে দিবে। আর একটি দাস মুক্ত করার অর্থ হল, তার মুক্তির জন্য কিছু মূল্য প্রাদানের মাধ্যমে সাহায্য করবে। (এদ্ভিন্ন জান্নাতে প্রবেশকারী কাজের মধ্যে অন্যতম হল) প্রচুর দুধ প্রদানকারী জানোয়ার দান করা এবং এমন নিকটতম আত্নীয়ের প্রতি অনুগ্রহ করা, যে তোমার উপর অত্যাচারী। যদি তুমি এ সমস্ত কাজ করতে সক্ষম না হও, ক্ষুদার্থকে খাদ্য দান কর এবং পিপাসিতকে পানি পান করাও। সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ কর। আর যদি তোমার দ্বারা এ কাজ করাও সম্ভব না হয়, তবে কল্যাণকর কথা ব্যতীত অন্য কথা থেকে তোমার জিহবাকে সংযত রাখ।[10]
উল্লিখিত হাদীছে ইসলাম দাসমুক্তিকে জান্নাত লাভের বিশেষ মাধ্যম হিসাবে উল্লেখ করেছে। আর দাসমুক্তির জন্য যেহেতু প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়, সেহেতু আল্লাহ তা‘আলা ইসলামী অর্থনীতির প্রধান উৎস যাকাত বণ্টনের খাত সমূহের মধ্যে দাসমুক্তিকে উল্লেখ করেছেন।
(৬) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার ঋণ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে যাকাত প্রদান করা যাবে। হাদীছে এসেছে,
عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ الْهِلاَلِىِّ قَالَ تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً فَأَتَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَسْأَلُهُ فِيْهَا فَقَالَ أَقِمْ حَتَّى تَأْتِيَنَا الصَّدَقَةُ فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا قَالَ ثُمَّ قَالَ يَا قَبِيْصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَحِلُّ إِلاَّ لأَحَدِ ثَلاَثَةٍ رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيْبَهَا ثُمَّ يُمْسِكُ وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ اجْتَاحَتْ مَالَهُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيْبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُوْمَ ثَلاَثَةٌ مِنْ ذَوِى الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ لَقَدْ أَصَابَتْ فُلاَنًا فَاقَةٌ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيْبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ فَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ يَا قَبِيْصَةُ سُحْتًا يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا-  
কাবীছা ইবনু মাখারেক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি কিছু ঋণের যিম্মাদার হয়েছিলাম। অতএব এ ব্যাপারে কিছু চাওয়ার জন্য আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, (মদ্বীনায়) আবস্থান কর যতক্ষণ পর্যন্ত আমার নিকট যাকাতের মাল না আসে। তখন আমি তা হতে তোমাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দান করব। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) বললেন, মনে রেখ হে কাবীছা! তিন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো জন্য (যাকাতের মাল হতে) সাহায্য চাওয়া হালাল নয়। (১) যে ব্যক্তি কোন ঋণের যিম্মাদার হয়েছে তার জন্য (যাকাতের মাল হতে) সাহায্য চাওয়া হালাল যতক্ষণ না সে তা পরিশোধ করে। তারপর তা বন্ধ করে দিবে। (২) যে ব্যক্তি কোন বালা মুছীবতে আক্রান্ত হয়েছে যাতে তার সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে তার জন্য (যাকাতের মাল হতে) সাহায্য চাওয়া হালাল যতক্ষণ না তার প্রয়োজন পূর্ণ করার মত অথবা তিনি বলেছেন, বেঁচে থাকার মত কোন কিছু লাভ করে এবং (৩) যে ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত হয়েছে এমনকি তার প্রতিবেশীদের মধ্যে জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন তিন জন ব্যক্তি তার দারিদ্র্যের ব্যাপারে সাক্ষী প্রদান করেছে তার জন্য (যাকাতের মাল থেকে) সাহায্য চাওয়া হালাল যতক্ষণ না সে তার জীবিকা নির্বাহের মত অথবা তিনি বলেছেন, বেঁচে থাকার মত কিছু লাভ করে। হে কাবীছা! এরা ব্যতীত যারা (যাকাতের মাল থেকে) চায় তারা হারাম খাচ্ছে।[11]
(৭) আল্লাহর রাস্তায় : আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে যে কোন ধরনের প্রচেষ্টা ‘ফী সাবীলিল্লাহ’ বা আল্লাহর রাস্তার অন্তর্ভুক্ত। জিহাদ, দ্বীনী ইলম অর্জনের যাবতীয় পথ এবং দ্বীন প্রচারের যাবতীয় মাধ্যম এ খাতের অন্তর্ভুক্ত। হাদীছে এসেছে,
আতা ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, সম্পদশালী ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ হালাল নয়। তবে পাঁচ শ্রেণীর ধনীর জন্য তা জায়েয। (১) আল্লাহর পথে জিহাদরত ব্যক্তি। (২) যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী। (৩) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। (৪) যে ব্যক্তি যাকাতের মাল নিজ মাল দ্বারা ক্রয় করেছে এবং (৫) মিসকীন প্রতিবেশী তার প্রাপ্ত যাকাত থেকে ধনী ব্যক্তিকে উপঢৌকন দিয়েছে।[12]
(৮) মুসাফির : সফরে গিয়ে যার পাথেয় শেষ হয়ে গেছে সে ব্যক্তিকে যাকাতের অর্থ প্রদান করে বাড়ী পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে যাকাতের অর্থ দান করা যাবে। এক্ষেত্রে উক্ত মুসাফির সম্পদশালী হলেও তাকে যাকাত প্রদান করা যাবে।


 

Featured Post

প্রশ্নোত্তর পর্বসমূহ

আস সালামু আলাইকুম । আপনারা তাফহীমুল কুরআন এ্যাপের মাধ্যমে যে প্রশ্নগুলো করেছেন এখানে সেগুলোর উত্তর তালিকা আকারে দেওয়া হয়েছে।  বিগত দিনের ...